মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করলেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল।
গতকাল শনিবার জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়ে ট্রাম্পের নানা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন ম্যার্কেল। ওই সম্মেলনেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলোকে ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মেলন মঞ্চে এই দুই রাজনীতিকের বিতর্কের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মত-পথে বিভাজন রয়েছে।
সম্মেলন শেষে বিশ্বনেতাদের মধ্যেও আলোচনার মূল বিষয় হয়ে ওঠে এই বিভাজনের দিকটি।
মিউনিখের ব্যাভেরিয়া হোফ হোটেলে অনুষ্ঠিত ৫৫তম নিরাপত্তা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দেন ম্যার্কেল ও পেন্স।
পেন্স ইউরোপের দেশগুলোকে ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। তবে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করেন ম্যার্কেল।
মিউনিখের রাস্তায় শনিবার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ করেন। ছবি: সংগৃহীত
মিউনিখের রাস্তায় শনিবার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ করেন। ছবি: সংগৃহীত
ম্যার্কেল বলেন, জার্মানিতে তৈরি গাড়ি যদি হঠাৎ করেই মার্কিন সরকার তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য হুমকি বলে মনে করে, আর শুল্ক বাড়িয়ে দেয়, তবে তা তাঁদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক। ইউরোপীয় দেশগুলো যদি রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছেদ করে, তবে তা ভ্রান্ত রাজনীতি হবে বলে মনে করেন তিনি।
সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান পারমাণবিক চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্য অবরোধের বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাগাদা দেন। তিনি রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেন। বলেন, এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় বন্ধুদের কোনো বিপদ হলে তাদের প্রতিরক্ষার বিষয়ে গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব হবে না।
পেন্স জার্মানি-রাশিয়ার যৌথ নর্থ স্ট্রিম গ্যাসলাইন প্রকল্পের বিরুদ্ধে যেসব ইউরোপীয় দেশ সমালোচনা করেছে, তাদের ধন্যবাদ জানান।
পরে ম্যার্কেল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাতিল করলে হয়তো চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ব। কিন্তু আমরা কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়াকেও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে পেতে চাই।’
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্যিক অবরোধের বিরোধিতা করেন ম্যার্কেল। এমনটা করলে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক লেনদেন অরক্ষিত হবে বলে মনে করেন ম্যার্কেল।
ম্যার্কেল বলেন, পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়বে। বিশ্বব্যাপী নানা সংকট ও সমস্যার বিষয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। আলোচনা করতে হবে। হিংসা, অবরোধ দিয়ে বিশ্বে শান্তি ফিরে আসবে না।
এদিকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন চলাকালে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ন্যাটোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ করা হয়।
Online shop kushtia
Monday, February 18, 2019
আরও তিন ব্যাংকের অনুমোদন
আরও তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ রোববার রাতে নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়। এ নিয়ে বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদে অনুমোদন পেল ১৪টি ব্যাংক।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভায় বেঙ্গল কমার্শিয়াল, পিপলস ও সিটিজেন ব্যাংক নামে নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিকভাবে ব্যাংক তিনটিকে লেটার অব ইনটেন্ট বা আগ্রহপত্র দেওয়া হবে। এরপরই অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে বাকি কাজগুলো শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
জানা গেছে, আজ রোববার বিকেল চারটায় শুরু হওয়া পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষ হয় রাত নয়টায়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফারাহ মো. নাছের সাংবাদিকদের বলেন, তিনটি নতুন ব্যাংক অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব ব্যাংককে দুই বছরের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। অনুমোদন পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা করে। নতুন এ তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও বাংলাদেশ ব্যাংককে লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
২০০৯ থেকে মহাজোট সরকারের তিন মেয়াদে এখন পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আওয়ামী লীগের নেতাদের পাশাপাশি নতুন ব্যাংক পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশও। নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদনের ফলে দেশে মোট তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬২টিতে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ব্যাংক রয়েছে নাজুক অবস্থায়।
সূত্র জানায়, গত বছরের ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় রোববার অনুমোদন পাওয়া তিনটি ব্যাংকের বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে নথিপত্রের ঘাটতি থাকায় ওই সময় অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
নতুন তিন ব্যাংকের মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পেতে আবেদন করেছিলেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। আওয়ামী লীগের সাংসদ মোরশেদ আলম বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক। প্রস্তাবিত এই ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়াল, পোশাক খাতের ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপ ও ম্যাক্স গ্রুপ, পোশাক খাতের লাবিব ও শারমিন গ্রুপসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী।
পিপলস ব্যাংক পেতে আবেদন করেছিলেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাশেম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে তাঁর বাড়ি। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ব্যবসা রয়েছে বলে দাবি করলেও এ সংক্রান্ত পর্যাপ্ত নথিপত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে পারেননি। এর আগে এক পর্ষদ সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, এম এ কাশেমের সম্পদের হিসাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত হয়ে আসতে হবে।
আর সিটিজেন ব্যাংক পেতে আবেদন করেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। প্রস্তাবিত এ তিনটি ব্যাংকই রোববারের পর্ষদ সভায় অনুমোদন পায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ব্যাংক দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবেচনায় ব্যাংক হয়েছে। তা কিন্তু ভালো হয়নি, মানুষ ওই ব্যাংকগুলোকে আস্থায় নিতে পারেনি। এর ফলে আর্থিক খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি নতুন ও অভিনব ধারণা নিয়ে পেশাদারদের যুক্ত করে ব্যাংক পরিচালিত হয়, তাহলে হয়তো কিছু ভালো ফল আসতে পারে।
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এরশাদ সরকারের মেয়াদে (১৯৮২-৯০) ৯টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। ১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নতুন ৮টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে অনুমোদন পায় ১৩ ব্যাংক। আর ২০০৯ থেকে গতকাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে ১৪টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
শাহরুখ-কন্যার ক্র্যাশ
ডেটিংয়ের বয়স হয়ে গেছে শাহরুখ-কন্যা সুহানার। ইনস্টাগ্রামের স্টোরি ফিচার ‘আস্ক মি এ কোয়েশ্চেন’-এ তিনি প্রকাশ করেছেন নিজের ইচ্ছের কথা। জানিয়েছেন, নিজের ক্র্যাশের নাম, যাঁর সঙ্গে তিনি ডেটিংয়ে যেতে চান। কে সেই ভাগ্যবান পুরুষ?
প্রশ্নোত্তরের ওই ফিচারে সুহানা জানিয়েছেন, এক দক্ষিণ কোরীয় পপ গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা ও মডেলের নাম। তিনি কিম জুন-মিয়ন। বলিউড রাজকুমারীর কী এক বিস্ময়কর পছন্দ! এই তরুণ শিল্পীকে অনুসরণ করে আসছেন তিনি!
বাবা শাহরুখ খানের পদচিহ্ন অনুসরণ করেই এগিয়ে যাবেন সুহানা খান, সেটা নিশ্চিত। ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছেন তিনি। অভিনয় অঙ্গনে ইতিমধ্যে টুকিটাকি কাজ করছেন। গত বছর ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে অভিনয়ের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন এই তরুণী। যুক্তরাজ্যের আর্ডিংলি কলেজের ছাত্রী সুহানা ইতিমধ্যে কলেজের মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছেন। ‘রোমিও-জুলিয়েট’ নাটকের জুলিয়েট চরিত্রে বেশ ভালো অভিনয় করেছেন তিনি। বাবা শাহরুখ খান সেই নাটক দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে। শিগগির হয়তো বলিউডের ছবিতে অভিষিক্ত হবেন তিনি।
ক্রমেই অনুসারী বাড়ছে সুহানার। প্রায়ই নানা কারণে ভাইরাল হচ্ছেন তিনি। গত মাসেও সুইমিংপুলে নেমে ভাইরাল হন তিনি। তাঁর শেয়ার করা ছোট্ট ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। যেখানে শাহরুখ-কন্যাকে দেখা যায় বিকিনি পরা অবস্থায়। অনেকেই মনে করছেন, নায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার আগে প্রস্তুতি হিসেবেই তিনি এসব করছেন। সূত্র: ডেকান ক্রনিকল
প্রশ্নোত্তরের ওই ফিচারে সুহানা জানিয়েছেন, এক দক্ষিণ কোরীয় পপ গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা ও মডেলের নাম। তিনি কিম জুন-মিয়ন। বলিউড রাজকুমারীর কী এক বিস্ময়কর পছন্দ! এই তরুণ শিল্পীকে অনুসরণ করে আসছেন তিনি!
বাবা শাহরুখ খানের পদচিহ্ন অনুসরণ করেই এগিয়ে যাবেন সুহানা খান, সেটা নিশ্চিত। ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছেন তিনি। অভিনয় অঙ্গনে ইতিমধ্যে টুকিটাকি কাজ করছেন। গত বছর ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে অভিনয়ের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন এই তরুণী। যুক্তরাজ্যের আর্ডিংলি কলেজের ছাত্রী সুহানা ইতিমধ্যে কলেজের মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছেন। ‘রোমিও-জুলিয়েট’ নাটকের জুলিয়েট চরিত্রে বেশ ভালো অভিনয় করেছেন তিনি। বাবা শাহরুখ খান সেই নাটক দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে। শিগগির হয়তো বলিউডের ছবিতে অভিষিক্ত হবেন তিনি।
ক্রমেই অনুসারী বাড়ছে সুহানার। প্রায়ই নানা কারণে ভাইরাল হচ্ছেন তিনি। গত মাসেও সুইমিংপুলে নেমে ভাইরাল হন তিনি। তাঁর শেয়ার করা ছোট্ট ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। যেখানে শাহরুখ-কন্যাকে দেখা যায় বিকিনি পরা অবস্থায়। অনেকেই মনে করছেন, নায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার আগে প্রস্তুতি হিসেবেই তিনি এসব করছেন। সূত্র: ডেকান ক্রনিকল
মিষ্টির প্যাকেটে ওষুধ কেনাবেচা!
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কসমোপলিটন হোমস মার্কেটের তিনটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার র্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র্যাব-২ ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই অভিযারাজধানীর মোহাম্মদপুরের কসমোপলিটন হোমস মার্কেটের তিনটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার র্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র্যাব-২ ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় রয়েল মেডিকেল হল, নরসিংদী ফার্মা ও হামিদা ফার্মা থেকে সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য উৎপাদিত বিপুল পরিমাণের ওষুধ ও সরঞ্জাম জব্দ এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা পণ্যের মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। রয়েল মেডিকেল হল মিষ্টির বাক্সে করে এসব ওষুধ ও অন্য সরঞ্জাম আনা হতো এবং বিক্রিও হতো ওই প্যাকেটেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনটি ফার্মেসি সিলগালা করে
পরীক্ষা নিয়ে যত কাণ্ড!
নতুন সরকারের নতুন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি মাধ্যমিক বা এসএসসি পরীক্ষা নিতে গিয়ে বেশ ফ্যাসাদে পড়েছেন। শুরুটাই ভালো হলো না তাঁর। প্রথম দিনেই বাংলা প্রথম পত্রে দেশের নানা স্থানে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা কেঁদেকেটে বুক ভাসিয়েছে, আশাহত হয়েছেন অভিভাবকেরা। ২০১৭-১৯ শিক্ষাবর্ষের অনেক পরীক্ষার্থী ২০১৬-১৮ সনের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে গিয়ে এই মসিবতে পড়ে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য বসে থাকেনি। তাৎক্ষণিক বিচারে কতল করেছে কেন্দ্রসচিবদের। ন্যায্য শাস্তিই তাঁরা পেয়েছেন। কিন্তু যাঁরা এ ভুলের সূত্রপাত করেছেন অর্থাৎ যাঁদের কারণে এসব ভুল হতে পেরেছে, তাদের বিষয়ে কোনো পক্ষের কোনো আওয়াজ আমি অন্তত শুনিনি।
আমি একটি ছোট্ট বিষয় উত্থাপন করতে চাই। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় শুধু বাংলা বিষয়ে মোট তিন সেশনের প্রশ্ন করতে হয়েছে প্রত্যেক বোর্ডকে। পত্রিকাগুলো যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৬, ২০১৮ ও ২০১৯—এই তিন বছরের ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নিতে হয়েছে। আর তাতেই এই গোল বেধেছে।
আমার খুব জানার ইচ্ছা করে, ২০১৬, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য তিন-তিনটা আলাদা সিলেবাস করতে হলো কেন? কারা সেটা করেছেন? কোন অভিপ্রায় থেকে করেছেন?
সবাই জানেন, শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা গ্রহণ করে। কিন্তু অনেকেই এটা জানেন না, সিলেবাস শিক্ষা বোর্ড প্রণয়ন করে না। সেটা করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবি। তাদের কাছে কি জাতি জানতে চাইতে পারে, ২০১৬ থেকে ২০১৯—এই চার বছরে কী এমন জরুরি প্রয়োজন দেখা দেয় যে তিন-তিনবার সিলেবাস পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হয়েছে? একজন শিক্ষক হিসেবে আমি যত দূর জানি, দুনিয়ার কোনো দেশে যখন-তখন সিলেবাস পরিবর্তন/সংশোধন করা হয় না। একটি সিলেবাস প্রণয়নে যেমন অন্তত বছর পাঁচেক সময় গবেষণা করা হয়, তেমনি যেকোনো সামান্য পরিবর্তনের জন্যও অন্তত বছর পাঁচেক তো বটেই, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক দশকেও সিলেবাসে হস্তক্ষেপ করা হয় না।
যদি মাত্র চার বছরে আমাদের সিলেবাস তিনবার সংশোধন/পরিমার্জন করার প্রয়োজন অনিবার্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর্তাদের এটা স্বীকার করতে হবে, সিলেবাস প্রণয়নে তাঁরা নিদারুণ ব্যর্থ ছিলেন বলেই এই কাণ্ড ঘটতে পেরেছে। কী সেই ব্যর্থতা? তাহলে কি অযোগ্য ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছিল সিলেবাস প্রণয়নে? কে, কোন ক্ষমতা বলে সেসব অযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে সিলেবাস প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন? এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?
দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমরা সম্ভবত সঠিকভাবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারিনি। শিক্ষার মস্তিষ্ক কারিকুলাম, সিলেবাস। একটি সুচিন্তিত, যুগোপযোগী কারিকুলামই নির্ধারণ করবে আগামী প্রজন্ম কেমন শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। আর সিলেবাসে বিন্যস্ত থাকে কোন শ্রেণিতে শিশুকে কোন বিষয়ে কতটুকু শেখাতে হবে। সে কারণে পৃথিবীর সব দেশে কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়নে খোঁজ করা হয় সবচেয়ে দূরদর্শী এমন কিছু শিক্ষাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদকে, যাঁরা অন্তত পরবর্তী ৫০ বছরকে সামনে রেখে স্বপ্ন দেখতে জানেন। এ জন্য সরকার তার সব সামর্থ্যকে উজাড় করে কারিকুলাম স্পেশালিস্ট টিম গড়ে তোলে। নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে তাঁরা আগামী প্রজন্মের জন্য এমন এক দিকনির্দেশনা প্রণয়ন করেন, যা জাতিকে সত্যিকারের নেতৃত্ব দানের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবি হলো সব সরকারের স্বজন পোষণের নিরাপদ প্রতিষ্ঠান; যোগ্যতা যেখানে কখনো বিচার্য নয়। ফলে জাতীয় স্বার্থ কোনো সরকারের আমলেই প্রাধান্য পায়নি। কারিকুলাম কমিটি গঠনের চরিত্র বিশ্লেষণ করলেও আমরা সেখানে পদাধিকারীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা আবিষ্কার করব। ফলে, প্রকৃত শিক্ষাবিজ্ঞানী বা শিক্ষাবিদদের কোনো সুপারিশই সেখানে গ্রাহ্য হয় না। আমরা হতাশার সঙ্গে এটাও লক্ষ করব যে, শিক্ষকদের ওপর আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য বিস্তার এখন অতি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর তাই আজগুবি সব ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে আমলাদের প্রাধান্য অন্য পেশাজীবী বিশেষজ্ঞদের প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। আর সেই বিষবৃক্ষ প্রতিনিয়ত আমাদের স্বপ্নভঙ্গের প্রধান কারণে পরিণত হয়েছে।
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এমন সব ঘটনা ঘটে চলেছে, এক কথায় যা অবিশ্বাস্য। যেমন, আজ মঙ্গলবার যশোর বোর্ডের আইসিটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। কারণ, প্রশ্নপত্রে মারাত্মক ভুল ধরা পড়েছে। আইসিটি প্রশ্নপত্রের প্রায় অর্ধেক প্রশ্ন এসেছে অন্য একটি বিষয় ক্যারিয়ার শিক্ষা থেকে, যেটির পরীক্ষা আগামীকাল হওয়ার কথা। যশোর বোর্ড অবশ্য পরীক্ষার্থী, অভিভাবক সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। তবে চেয়ারম্যান মহোদয়ের অসহায়ত্ব প্রকাশিত হয়েছে অন্য একটি বক্তব্যে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, আগামীকাল নির্ধারিত ক্যারিয়ার শিক্ষা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না। তিনি বলেছেন, সেটা বলবে মন্ত্রণালয়।
আমাদের কপাল! শিক্ষা মন্ত্রণালয় এভাবেই কয়েক দশক ধরে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওপর অন্যায্য, অপ্রত্যাশিত খবরদারি করে চলেছে। পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল তৈরি, ফল প্রকাশ একান্তই শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব; অন্তত ১৯৬১ সালের যে অরডিন্যান্স বলে শিক্ষা বোর্ডগুলো স্থাপিত, সে অরডিন্যান্সে তা-ই বলা আছে। কিন্তু আইনে থাকলে কী হবে? গত কয়েক দশকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রায় সব স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। তাই কোন বোর্ডে কতজন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে, এই অতি সাধারণ তথ্যটি প্রকাশ করার কোনো অধিকার এখন কোনো শিক্ষা বোর্ডের নেই, সেটা বলার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, নিদেন পক্ষে সচিব মহোদয় আছেন না!
স্বাধীনতা মানুষকে স্বশাসনের অধিকার প্রদান করে। আর সব ধরনের স্বশাসনই কর্তব্যবোধ দ্বারা সীমিত। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে কেবল কেন্দ্রই স্বাধীন, অপরাপর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর। স্বাধীনতা যেখানে স্থানীয় সরকারের বিকাশ ঘটায়, এ দুর্ভাগা দেশে তা আরও কেন্দ্রীভূত করে।
আমরা কেউ জানি না আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কোন পথের যাত্রী। কিন্তু এটা জানি, উন্নতির স্বর্ণশিখরে ওঠার মহাসোপান আমাদের হাতছানি দিচ্ছে। এই যুব-আধিক্য (পপুলেশন ডিভিডেন্ট) সময়ে যদি আমরা উন্নতির জন্য যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হই, তার পরিণাম হবে মারাত্মক।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে চাই, দেশে বহু কিসিমের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে জরুরি যে একটি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সে ব্যাপারে আমরা সরকারের কোনো উদ্যোগ আয়োজন দেখতে পাচ্ছি না।
নতুন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। তিনি যেন মন্ত্রণালয়ের আমলাদের সামলান। পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধের উদ্যোগ নেন; এবং একটি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
আমি একটি ছোট্ট বিষয় উত্থাপন করতে চাই। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় শুধু বাংলা বিষয়ে মোট তিন সেশনের প্রশ্ন করতে হয়েছে প্রত্যেক বোর্ডকে। পত্রিকাগুলো যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৬, ২০১৮ ও ২০১৯—এই তিন বছরের ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নিতে হয়েছে। আর তাতেই এই গোল বেধেছে।
আমার খুব জানার ইচ্ছা করে, ২০১৬, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য তিন-তিনটা আলাদা সিলেবাস করতে হলো কেন? কারা সেটা করেছেন? কোন অভিপ্রায় থেকে করেছেন?
সবাই জানেন, শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা গ্রহণ করে। কিন্তু অনেকেই এটা জানেন না, সিলেবাস শিক্ষা বোর্ড প্রণয়ন করে না। সেটা করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবি। তাদের কাছে কি জাতি জানতে চাইতে পারে, ২০১৬ থেকে ২০১৯—এই চার বছরে কী এমন জরুরি প্রয়োজন দেখা দেয় যে তিন-তিনবার সিলেবাস পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হয়েছে? একজন শিক্ষক হিসেবে আমি যত দূর জানি, দুনিয়ার কোনো দেশে যখন-তখন সিলেবাস পরিবর্তন/সংশোধন করা হয় না। একটি সিলেবাস প্রণয়নে যেমন অন্তত বছর পাঁচেক সময় গবেষণা করা হয়, তেমনি যেকোনো সামান্য পরিবর্তনের জন্যও অন্তত বছর পাঁচেক তো বটেই, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক দশকেও সিলেবাসে হস্তক্ষেপ করা হয় না।
যদি মাত্র চার বছরে আমাদের সিলেবাস তিনবার সংশোধন/পরিমার্জন করার প্রয়োজন অনিবার্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর্তাদের এটা স্বীকার করতে হবে, সিলেবাস প্রণয়নে তাঁরা নিদারুণ ব্যর্থ ছিলেন বলেই এই কাণ্ড ঘটতে পেরেছে। কী সেই ব্যর্থতা? তাহলে কি অযোগ্য ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছিল সিলেবাস প্রণয়নে? কে, কোন ক্ষমতা বলে সেসব অযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে সিলেবাস প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন? এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?
দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমরা সম্ভবত সঠিকভাবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারিনি। শিক্ষার মস্তিষ্ক কারিকুলাম, সিলেবাস। একটি সুচিন্তিত, যুগোপযোগী কারিকুলামই নির্ধারণ করবে আগামী প্রজন্ম কেমন শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। আর সিলেবাসে বিন্যস্ত থাকে কোন শ্রেণিতে শিশুকে কোন বিষয়ে কতটুকু শেখাতে হবে। সে কারণে পৃথিবীর সব দেশে কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়নে খোঁজ করা হয় সবচেয়ে দূরদর্শী এমন কিছু শিক্ষাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদকে, যাঁরা অন্তত পরবর্তী ৫০ বছরকে সামনে রেখে স্বপ্ন দেখতে জানেন। এ জন্য সরকার তার সব সামর্থ্যকে উজাড় করে কারিকুলাম স্পেশালিস্ট টিম গড়ে তোলে। নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে তাঁরা আগামী প্রজন্মের জন্য এমন এক দিকনির্দেশনা প্রণয়ন করেন, যা জাতিকে সত্যিকারের নেতৃত্ব দানের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবি হলো সব সরকারের স্বজন পোষণের নিরাপদ প্রতিষ্ঠান; যোগ্যতা যেখানে কখনো বিচার্য নয়। ফলে জাতীয় স্বার্থ কোনো সরকারের আমলেই প্রাধান্য পায়নি। কারিকুলাম কমিটি গঠনের চরিত্র বিশ্লেষণ করলেও আমরা সেখানে পদাধিকারীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা আবিষ্কার করব। ফলে, প্রকৃত শিক্ষাবিজ্ঞানী বা শিক্ষাবিদদের কোনো সুপারিশই সেখানে গ্রাহ্য হয় না। আমরা হতাশার সঙ্গে এটাও লক্ষ করব যে, শিক্ষকদের ওপর আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য বিস্তার এখন অতি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর তাই আজগুবি সব ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে আমলাদের প্রাধান্য অন্য পেশাজীবী বিশেষজ্ঞদের প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। আর সেই বিষবৃক্ষ প্রতিনিয়ত আমাদের স্বপ্নভঙ্গের প্রধান কারণে পরিণত হয়েছে।
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এমন সব ঘটনা ঘটে চলেছে, এক কথায় যা অবিশ্বাস্য। যেমন, আজ মঙ্গলবার যশোর বোর্ডের আইসিটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। কারণ, প্রশ্নপত্রে মারাত্মক ভুল ধরা পড়েছে। আইসিটি প্রশ্নপত্রের প্রায় অর্ধেক প্রশ্ন এসেছে অন্য একটি বিষয় ক্যারিয়ার শিক্ষা থেকে, যেটির পরীক্ষা আগামীকাল হওয়ার কথা। যশোর বোর্ড অবশ্য পরীক্ষার্থী, অভিভাবক সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। তবে চেয়ারম্যান মহোদয়ের অসহায়ত্ব প্রকাশিত হয়েছে অন্য একটি বক্তব্যে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, আগামীকাল নির্ধারিত ক্যারিয়ার শিক্ষা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না। তিনি বলেছেন, সেটা বলবে মন্ত্রণালয়।
আমাদের কপাল! শিক্ষা মন্ত্রণালয় এভাবেই কয়েক দশক ধরে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওপর অন্যায্য, অপ্রত্যাশিত খবরদারি করে চলেছে। পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল তৈরি, ফল প্রকাশ একান্তই শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব; অন্তত ১৯৬১ সালের যে অরডিন্যান্স বলে শিক্ষা বোর্ডগুলো স্থাপিত, সে অরডিন্যান্সে তা-ই বলা আছে। কিন্তু আইনে থাকলে কী হবে? গত কয়েক দশকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রায় সব স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। তাই কোন বোর্ডে কতজন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে, এই অতি সাধারণ তথ্যটি প্রকাশ করার কোনো অধিকার এখন কোনো শিক্ষা বোর্ডের নেই, সেটা বলার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, নিদেন পক্ষে সচিব মহোদয় আছেন না!
স্বাধীনতা মানুষকে স্বশাসনের অধিকার প্রদান করে। আর সব ধরনের স্বশাসনই কর্তব্যবোধ দ্বারা সীমিত। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে কেবল কেন্দ্রই স্বাধীন, অপরাপর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর। স্বাধীনতা যেখানে স্থানীয় সরকারের বিকাশ ঘটায়, এ দুর্ভাগা দেশে তা আরও কেন্দ্রীভূত করে।
আমরা কেউ জানি না আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কোন পথের যাত্রী। কিন্তু এটা জানি, উন্নতির স্বর্ণশিখরে ওঠার মহাসোপান আমাদের হাতছানি দিচ্ছে। এই যুব-আধিক্য (পপুলেশন ডিভিডেন্ট) সময়ে যদি আমরা উন্নতির জন্য যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হই, তার পরিণাম হবে মারাত্মক।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে চাই, দেশে বহু কিসিমের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে জরুরি যে একটি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সে ব্যাপারে আমরা সরকারের কোনো উদ্যোগ আয়োজন দেখতে পাচ্ছি না।
নতুন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। তিনি যেন মন্ত্রণালয়ের আমলাদের সামলান। পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধের উদ্যোগ নেন; এবং একটি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
স্বাধীনতার বিরোধিতা করে কোনো দল টেকেনি
মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া ও দল বিলুপ্তির প্রশ্নে জামায়াতে মতবিরোধ আবারও সামনে এসেছে। কয়েক দিন ধরেই জামায়াত নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনার মধ্যে শুক্রবার পদত্যাগ করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাক। এ নিয়ে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন। লন্ডনে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদ।
প্রথম আলো: আপনি জামায়াতে ইসলামীতে যে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন, তার একটা বিষয় ছিল ’৭১-এ দলের ভূমিকার জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, আর অন্যটি দলের রাজনৈতিক ভাবাদর্শে পরিবর্তন। আপনি সামাজিক ন্যায়বিচারের রাজনীতির কথা বলেছেন। তো এই দুইয়ের মধ্যে কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
আবদুর রাজ্জাক: আমার মনে হয় দুটোই। কিন্তু আমি খুব খোলামেলাভাবেই বলব যে, ’৭১-এর জামায়াত দেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। জামায়াত দেশে ঘৃণার পাত্র হয়ে গিয়েছিল। এটা আমাকে বেশি পীড়া দিয়েছে। ’৮১ সালে যে জন্ম নিয়েছে এবং জামায়াতের রাজনীতি করতে চায়, সে কেন জামায়াতের ওই বোঝা বহন করবে? একাত্তরই আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তা না হলে হয়তো আমি আরও কিছুদিন দলে থেকে সংস্কারের চেষ্টা করতাম। ’৭১-এর বিষয়ে আমি যেটা বলতে পারি সেটা হচ্ছে, একটি দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে কেউ সে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন-এ রকম ইতিহাস আমি খুঁজে পাই না। সেটা জর্জ ওয়াশিংটনের কথাই বলেন, আর আমাদের উপমহাদেশের কথাই বলেন, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার ইতিহাস দেখুন।
প্রথম আলো: আপনি জামায়াতের রাজনীতি করছেন ৩০ বছর ধরে। তাহলে স্বাধীনতার পর আপনি জামায়াতে কেন যোগ দিলেন?
আবদুর রাজ্জাক: আসলে আমি তো একজন মুসলিম ডেমোক্র্যাট এবং ইসলামি মূল্যবোধ যেটা আমি তো মনে করি সেটিই সবচেয়ে বড় মূল্যবোধ। যদিও আমি মনে করি, ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর মধ্যেই ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হবে। সুতরাং, এই মূল্যবোধের প্রসার ঘটানোর জন্যই আমি মনে করেছিলাম যে জামায়াত উপযুক্ত ফোরাম।
স্বাধীনতার বিরোধিতা করে কোনো দল টিকতে পারে না বা সে দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে না।
Eprothom Aloপ্রথম আলো: তখন জামায়াতে যোগ দেওয়ার সময়ে আপনার মনে হয়নি যে দলটির ’৭১-এর দায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে?
আবদুর রাজ্জাক: ওই সময় এটি কোনো বাধা ছিল না। ’৮৬-তে জামায়াত যুগপৎ আন্দোলন করেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে। ’৮৬-র নির্বাচনে বিএনপি আসেনি। কিন্তু, জামায়াত আওয়ামী লীগের পাশাপাশি অংশ নিয়েছে। তখন বিষয়টা বড় হয়ে ওঠেনি। ’৯০-তে আমার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয় যে ’৭১-এর বিষয়টি নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। ’৯০ সালে আমি চীনে এক সম্মেলনে গিয়েছিলাম। সেখানে পাকিস্তান থেকে গিয়েছিলেন দেশটির প্রধান বিচারপতি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দেশটির বিচারপতি নাসিম হাসান শাহ। তাঁরা ফেরার পথে ঢাকা হয়ে গিয়েছিলেন। ঢাকায় তখন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন এবং প্রধান বিচারপতি ছিলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। পাকিস্তানের বিচারপতিরা ছিলেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে। তো সেখান থেকে বিচারপতি নাসিম হাসান শাহ আমাকে ফোনে ডাকলেন। উদীয়মান আইনজীবী হিসেবে তাঁরা আমাকে বেশ সম্মান দিয়েছিলেন। বিচারপতি শাহ আমাকে বললেন, দল হিসেবে ’৭১-এর বিষয়টির যদি সুরাহা না করতে পারো, তাহলে জামায়াত বেশি দূর এগোতে পারবে না।
২০০১ সালে ক্ষমা চাইতে বলি
প্রথম আলো: তখন থেকে ২০১৯-এই সময়ের মধ্যে আপনি পাঁচটি সময় উল্লেখ করেছেন; ২০০১, ২০০৫, ২০০৭-০৮, ২০১১ এবং ২০১৬, যখন আপনি লিখিতভাবে সংস্কারের কথা বলেছেন। এত দীর্ঘ সময় কেন অপেক্ষা করলেন?
আবদুর রাজ্জাক: ১৯৯৪ সালে যখন গোলাম আযম সাহেবের নাগরিকত্বের বিষয়টি সমাধান হয়ে গেল, তখনই আমি মত দিই যে আমাদের মাফ চাওয়া উচিত।
প্রথম আলো: ব্যক্তিগতভাবে আপনি সরাসরি বলেছিলেন?
আবদুর রাজ্জাক: আমি ব্যক্তিগতভাবে আলাপ-আলোচনায় তুলেছি। তবে, আমি অবশ্যই স্বীকার করব যে তখন নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি, যেটা ২০০১ সালে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের সহায়তা নিয়েছিলাম, যাঁদের দুজন এখনো জীবিত আছেন। আমি লিখিতভাবে খসড়া বিবৃতি তৈরি করে দিয়েছিলাম। সে বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেটি হবে বলে আশা করেছিলাম।
আমি খুব খোলামেলাভাবেই বলব যে, ’৭১-এর জামায়াত দেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। জামায়াত দেশে ঘৃণার পাত্র হয়ে গিয়েছিল।
প্রথম আলো: আপনি পদত্যাগপত্রে বলেছেন যে তিন দশক ধরে আপনি দলটিতে সংস্কার করতে চেয়েও তা পারেননি এবং সে কারণেই পদত্যাগ করেছেন। কী সংস্কার করতে চেয়েছেন?
আবদুর রাজ্জাক: প্রথমে আমি চাইছিলাম যে জামায়াতে কাঠামোগত পরিবর্তন হোক। কাঠামোটা বড্ড অনমনীয়, সেটা আরেকটু নমনীয় করা যায় কি না। যেমন, দলের নেতৃত্বে নারী প্রতিনিধিত্ব নেই। অথচ জামায়াতে প্রচুর নারীর অংশগ্রহণ আছে। কিন্তু সেই অনুপাতে দলে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব পর্যাপ্ত নয়।
প্রথম আলো: উদ্দেশ্যটা কী? রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন?
আবদুর রাজ্জাক: একটা দেশকে যদি আপনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান, তাহলে দেশের বাস্তবতাটা বুঝতে হবে। আপনি রাজনীতি করছেন, তাই রাজনৈতিকভাবে অন্যকে মোকাবিলার জন্য প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। মনে করেন মিসরে ব্রাদারহুড ছিল। কিন্তু তারা সেটাকে ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি করে তার পরিব্যাপ্তিটা অনেক বাড়াতে পেরেছিল। তুরস্কের একে পার্টির ইতিহাস দেখুন। সেখানে তারা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে। দলে পরিবর্তন না ঘটালে তারা এভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে পারত না। সেখানে তারা কারচুপি করে ক্ষমতায় আসেনি। আমার কথা ছিল, আমাদেরও দলে সংস্কার আনতে হবে।
একবার ফরাসি দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক হলো। তাঁদের আমাদের দলের একটা সাময়িকী দেওয়া হলো, যেটি নারীরা তৈরি করেছেন। তাঁরা বললেন, সাময়িকীতে যত ছবি ছাপা হয়েছে, সবাই পুরুষ। এতে নেকাব পরা নারীদের ছবিও তো থাকতে পারত। এটা তো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আপনি নারীদের শুধু বিশেষ কোটায় নেবেন কেন? জামায়াতে তো অনেক শিক্ষিত ও যোগ্য নারী আছেন। সংস্কারের এসব কথা আমি বলেছি।
উগ্রপন্থা প্রতিষ্ঠার অভিযোগ
প্রথম আলো: নারীর প্রতিনিধিত্বের বিষয় তো একটা দিক মাত্র। কিন্তু জামায়াতের রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন? জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, দলটি র্যাডিক্যাল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে ক্ষেত্রে কী পরিবর্তনের কথা ছিল?আবদুর রাজ্জাক: জামায়াতে ইসলামী সমাজব্যবস্থার কথা বলে। কিন্তু র্যাডিক্যাল ইসলাম বলতে যা বোঝায়, সন্ত্রাসবাদ বা উগ্রপন্থা—সেটা জামায়াতের রাজনীতি নয়।
১৯৯৪ সালে যখন গোলাম আযম সাহেবের নাগরিকত্বের বিষয়টি সমাধান হয়ে গেল, তখনই আমি মত দিই যে আমাদের মাফ চাওয়া উচিত।
প্রথম আলো: কিন্তু আপনাদের স্লোগান, ‘আল্লাহর আইন চাই’, গঠনতন্ত্রের ঘোষণা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব—এসব বিষয়কে আপনাদের সমালোচকেরা র্যাডিক্যাল ইসলাম বলেই অভিহিত করে থাকেন।
আবদুর রাজ্জাক: র্যাডিক্যাল বলতে বোঝায় সন্ত্রাসবাদ। জামায়াত কিন্তু উদার (মডারেট) ইসলামের রাজনীতিকেই গ্রহণ করেছে। অন্যান্য মুসলিম দেশও সেটাই গ্রহণ করেছে। দেখুন, ’৪৭-এর জামায়াত, ’৭১-এর জামায়াত, আর ২০১৯ সালের জামায়াত তো এক নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পরিবর্তন ঘটছে। ১৮৮০ সালে যখন কংগ্রেস গঠিত হয়, তখন তার নেতা হয়েছিলেন একজন স্কটিশ। পরে সুভাষ বোস, জওহরলাল নেহরু, তারপর ইন্দিরা গান্ধী। তাঁদের প্রত্যেকের সময়েই দলটিতে পরিবর্তন এসেছে। মুসলিম লীগ হয়েছিল ১৯০৬ সালে, স্যার সলিমুল্লাহ তার নেতা ছিলেন। সলিমুল্লাহর মুসলিম লীগ আর জিন্নাহর মুসলিম লীগ এক ছিল না। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবর্তন ঘটানোর প্রয়োজন হয়। সেই পরিবর্তন করতে হবে।
রাজনীতি দূষিত হয়ে গেছে, নতুন দল করছি না
প্রথম আলো: আপনার পুরোনো সহকর্মীরা যদি অভিযোগ করেন যে আপনি তাঁদের দুর্দিনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের ক্ষতি করেছেন এবং এর পেছনে আপনার অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। আপনার জবাব কী?
আবদুর রাজ্জাক: সেটা ঠিক হবে না। কারণ, দলের সবচেয়ে সুসময় ছিল ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল। আমরা তখন ক্ষমতার অংশীদার ছিলাম। তখনই তো আমি কথাটি তুলেছিলাম। এখন আমি বুঝতে পারছি যে জামায়াতকে আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। আর জামায়াতের দুর্দিন এখন তো বোধ হয় কমে গেছে। সবচেয়ে খারাপ সময় গেছে দলের পাঁচজন নেতার বিচার এবং ফাঁসির সময়। আমি তো তখন আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আমি জানতাম, তৃতীয় বিশ্বের দেশে অভিযুক্তের পক্ষ সমর্থন করা সহজ নয়।
একটা দেশকে যদি আপনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান, তাহলে দেশের বাস্তবতাটা বুঝতে হবে।
প্রথম আলো: তাঁরা যদি বলেন আপনি দল ত্যাগ করেছেন কোনো উদ্দেশ্য থেকে। কী বলবেন?
আবদুর রাজ্জাক: আমি দলত্যাগ করেছি নৈতিকতার উচ্চ অবস্থান থেকে।
প্রথম আলো: কী করার জন্য? ব্যক্তি হিসেবে আপনি একা কী করতে পারবেন?
আবদুর রাজ্জাক: আমি কোনো সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছি না।
প্রথম আলো: একেবারে নিশ্চিত? এমনকি, আপনার নীতি সমর্থন করায় দল থেকে যাঁরা বহিষ্কৃত হচ্ছেন বা দলের ভেতরে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন, তাঁরা চাইলেও না?
আবদুর রাজ্জাক: আমি কোনো নতুন দল করছি না এবং কোনো বিদ্যমান দলেও যোগ দিচ্ছি না। একেবারে নিশ্চিত করে বলছি।
এখন আমি বুঝতে পারছি যে জামায়াতকে আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।
প্রথম আলো: জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে আপনার মতামতের অনুরূপ সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং তাতে দলের নতুন নামে সংগঠিত হওয়ার বিষয়টি ছিল, যা মজলিশে শুরা গ্রহণ করেনি। স্পষ্টতই দলের দুটো ধারা। এখন একটি পক্ষ যদি একে পার্টির মতো নতুন রূপে আত্মপ্রকাশের উদ্যোগ নেয়, আপনি তাতে যুক্ত হবেন না?
আবদুর রাজ্জাক: আমি নতুন কোনো দল করছি না, কোনো দলে যোগ দিচ্ছি না। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতি খুব টক্সিক (দূষিত) হয়ে গেছে। এখান থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে কোনো রাজনৈতিক দলে গিয়ে আমি কোনো অবদান রাখতে পারব না। আমি মনে করি, সিভিল সোসাইটির হয়ে বরং আমি কিছু করার চেষ্টা করতে পারি। আপনি দেখেন রাজনীতি কতটা টক্সিক হয়েছে। আবুল মনসুর আহমদের আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর বইতে উনি লিখেছেন যে ’৫৪ সালের নির্বাচনে আমরা যখন দেখলাম যুক্তফ্রন্টের প্রতিপক্ষের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা বললাম কিছু ভোট তাদের বাক্সে দাও যেন তাদের জামানত রক্ষা হয়।
আজকের বাংলাদেশে আপনি আমার প্রতিপক্ষ হলে আপনাকে পরাজিত করেই আমি খুশি হব না, আপনাকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে পারলেই আমি খুশি হব। এখানে সিভিল সোসাইটিকে ভূমিকা নিতে হবে। আমেরিকান এমবাসিতে এক দাওয়াতে আমি, মওদুদ সাহেব এবং আওয়ামী লীগ সরকারের একজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। ওই মন্ত্রী দুঃখের সঙ্গে বললেন যে বিএনপির একজন নেতা মারা গেছেন শুনে জানাজায় যাওয়ার জন্য তিনি পোশাক পরে তৈরি হওয়ার পর তাঁকে টেলিফোনে সেখানে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তখনকার চেয়ে পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে। এখানে যদি ভালো কিছু করতে হয় তাহলে আমার মতো মানুষের জন্য সিভিল সোসাইটি ছাড়া আর কাজ করার জায়গা নেই।
প্রথম আলো: কিন্তু বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটিও তো চাপের মধ্যে আছে?
আবদুর রাজ্জাক: চাপের মধ্যে আছে। কিন্তু সিভিল সোসাইটির বড় সমস্যা হচ্ছে দলীয় বিভাজন।
প্রথম আলো: সেই দলীয় আনুগত্যভিত্তিক বিভাজন তো আপনিও দূর করতে পারবেন না।
আবদুর রাজ্জাক: আমার মনে হয় সেখানে চেষ্টা করার সুযোগ এখনো আছে।
প্রথম আলো: জামায়াতকে পাশ্চাত্যের অনেক দেশ উদার ইসলামপন্থী রাজনীতির ধারক হিসেবে গ্রহণ করার পথে অগ্রসর হয়েছিল।
আবদুর রাজ্জাক: পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সঙ্গে আমার মাধ্যমেই যোগাযোগটা হতো। ২০০৩ সাল থেকে আমি যাওয়া আসা করি। ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, কংগ্রেস এগুলোতে আমার যাওয়া-আসা ছিল। মীর কাসেম আলীর যে ছেলেকে কিডন্যাপ করা হয়েছে তার মাধ্যমেই যোগাযোগ হতো। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার হওয়ার পর হয়তো তাঁদের কেউ কেউ এখন আর সম্পর্কের ব্যাপারে ততটা আগ্রহী নন। তবে একেবারে সম্পর্ক নেই, তা নয়। এখনো দূতাবাস থেকে যোগাযোগ করা হয়। আমি গত অক্টোবরে গিয়েছি। সেখানকার সিভিল সোসাইটিতে আমার বন্ধুবান্ধব আছে।
বোমা হামলা ও সহিংসতা
প্রথম আলো: কিন্তু অবস্থাটা তো বদলে গেছে। এর কারণ কী এই যে বাংলাদেশে জেএমবির ৬৩ জেলায় বোমা হামলা এবং বাংলা ভাইয়ের উত্থানের মতো সন্ত্রাসী ঘটনাগুলোয় জামায়াতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে? মতিউর রহমান নিজামী বাংলা ভাইকে মিডিয়ার সৃষ্টি বলে নাকচ করার চেষ্টা কি এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেনি?
আবদুর রাজ্জাক: বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি—এ কথা তিনি বলেছিলেন মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হচ্ছিল সেই পটভূমিতে। আর সে সময়ে ৬৩ জেলায় বোমা হামলার ঘটনা তো বাস্তবতা।
আমি দলত্যাগ করেছি নৈতিকতার উচ্চ অবস্থান থেকে।
প্রথম আলো: কিন্তু ইসলামের নামে সন্ত্রাসের মদদদাতা হিসেবে জামায়াত সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটা নিশ্চয়ই দলের ক্ষতি করেছে?
আবদুর রাজ্জাক: এটা সবাই জানে, সন্ত্রাসের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা জামাতের দর্শনের পরিপন্থী। এটা যারা সহ্য করতে পারেনি, তারা জামায়াত ছেড়ে গেছে। তাতেই কিন্তু প্রমাণ হয় জামায়াত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে।
প্রথম আলো: ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনার বিষয়েও তো জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
আবদুর রাজ্জাক: অনেক পুরোনো কথা, আমার মনে নেই কী হয়েছিল। কিন্তু একটা কথা আমি বলতে পারি, আমি এখন জামায়াতে নেই। কিন্তু জামায়াত সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, সব সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। তাই এটা বলা সঠিক হবে না। জামায়াতের ওপর অপবাদ চাপানো হবে।
প্রথম আলো: দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর যেসব সহিংসতা হয়েছে, বাড়িঘর পোড়ানো, বাসে আগুন দেওয়া—এসবের দায় তো জামায়াতের ওপর বর্তায়?
আবদুর রাজ্জাক: দেখুন, রাজনীতিতে সহিংসতার বিষয়টি পুরোনো। এগুলো আগেও তো হয়েছে। তবে জামায়াত অবস্থান নিয়েছে সহিংসতার বিরুদ্ধে। কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। কিন্তু বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের মতো পরিবেশ আছে কি?
ইসলামপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ
প্রথম আলো: বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী?
আবদুর রাজ্জাক: আমি মনে করি মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশে এখন যে ধারাটা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে জরুরি। একে পার্টি এবং এন্নাহাদা পার্টির (তিউনিসিয়া) মডেলে তরুণেরা এগিয়ে আসবে বলে আমি মনে করি। তবে আমি আমার লেখায় বলেছি যে ’৭১ নিয়ে কোনো আপস হবে না।
প্রথম আলো: তার মানে সেটাও তো জামায়াতের একটি উপজাত দল হবে?
আবদুর রাজ্জাক: এটা সময়ের দাবি। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের অধীনে মুসলিম উদার গণতান্ত্রিক দলের প্রয়োজন এবং সম্ভাবনা আমি দেখছি।
আমি নতুন কোনো দল করছি না, কোনো দলে যোগ দিচ্ছি না। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতি খুব টক্সিক (দূষিত) হয়ে গেছে।
প্রথম আলো: জামায়াতের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে বলে মনে হয়? বিশেষ করে মজলিশে শুরা তো পরিবর্তনের পক্ষে নয় বলেই মনে হচ্ছে।
আবদুর রাজ্জাক: মজলিশে শুরা যে একেবারেই পরিবর্তনের পক্ষে নয়, সেটা বলা যাবে না। সম্প্রতি তারা কিছু ভালো সিদ্ধান্ত তো নিয়েছে। আমি যে দুটি প্রস্তাব দিয়েছি তারা তা গ্রহণ করলে তাদের ভালো সম্ভাবনা আছে। দলটির মধ্যে এখনো উদার দৃষ্টির লোক আছেন। তাঁদের নাম বলতে চাই না। তাঁরা সংখ্যায় কম। কিন্তু
প্রথম আলো: আপনি জামায়াতে ইসলামীতে যে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন, তার একটা বিষয় ছিল ’৭১-এ দলের ভূমিকার জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, আর অন্যটি দলের রাজনৈতিক ভাবাদর্শে পরিবর্তন। আপনি সামাজিক ন্যায়বিচারের রাজনীতির কথা বলেছেন। তো এই দুইয়ের মধ্যে কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
আবদুর রাজ্জাক: আমার মনে হয় দুটোই। কিন্তু আমি খুব খোলামেলাভাবেই বলব যে, ’৭১-এর জামায়াত দেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। জামায়াত দেশে ঘৃণার পাত্র হয়ে গিয়েছিল। এটা আমাকে বেশি পীড়া দিয়েছে। ’৮১ সালে যে জন্ম নিয়েছে এবং জামায়াতের রাজনীতি করতে চায়, সে কেন জামায়াতের ওই বোঝা বহন করবে? একাত্তরই আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তা না হলে হয়তো আমি আরও কিছুদিন দলে থেকে সংস্কারের চেষ্টা করতাম। ’৭১-এর বিষয়ে আমি যেটা বলতে পারি সেটা হচ্ছে, একটি দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে কেউ সে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন-এ রকম ইতিহাস আমি খুঁজে পাই না। সেটা জর্জ ওয়াশিংটনের কথাই বলেন, আর আমাদের উপমহাদেশের কথাই বলেন, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার ইতিহাস দেখুন।
প্রথম আলো: আপনি জামায়াতের রাজনীতি করছেন ৩০ বছর ধরে। তাহলে স্বাধীনতার পর আপনি জামায়াতে কেন যোগ দিলেন?
আবদুর রাজ্জাক: আসলে আমি তো একজন মুসলিম ডেমোক্র্যাট এবং ইসলামি মূল্যবোধ যেটা আমি তো মনে করি সেটিই সবচেয়ে বড় মূল্যবোধ। যদিও আমি মনে করি, ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর মধ্যেই ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হবে। সুতরাং, এই মূল্যবোধের প্রসার ঘটানোর জন্যই আমি মনে করেছিলাম যে জামায়াত উপযুক্ত ফোরাম।
স্বাধীনতার বিরোধিতা করে কোনো দল টিকতে পারে না বা সে দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে না।
Eprothom Aloপ্রথম আলো: তখন জামায়াতে যোগ দেওয়ার সময়ে আপনার মনে হয়নি যে দলটির ’৭১-এর দায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে?
আবদুর রাজ্জাক: ওই সময় এটি কোনো বাধা ছিল না। ’৮৬-তে জামায়াত যুগপৎ আন্দোলন করেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে। ’৮৬-র নির্বাচনে বিএনপি আসেনি। কিন্তু, জামায়াত আওয়ামী লীগের পাশাপাশি অংশ নিয়েছে। তখন বিষয়টা বড় হয়ে ওঠেনি। ’৯০-তে আমার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয় যে ’৭১-এর বিষয়টি নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। ’৯০ সালে আমি চীনে এক সম্মেলনে গিয়েছিলাম। সেখানে পাকিস্তান থেকে গিয়েছিলেন দেশটির প্রধান বিচারপতি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দেশটির বিচারপতি নাসিম হাসান শাহ। তাঁরা ফেরার পথে ঢাকা হয়ে গিয়েছিলেন। ঢাকায় তখন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন এবং প্রধান বিচারপতি ছিলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। পাকিস্তানের বিচারপতিরা ছিলেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে। তো সেখান থেকে বিচারপতি নাসিম হাসান শাহ আমাকে ফোনে ডাকলেন। উদীয়মান আইনজীবী হিসেবে তাঁরা আমাকে বেশ সম্মান দিয়েছিলেন। বিচারপতি শাহ আমাকে বললেন, দল হিসেবে ’৭১-এর বিষয়টির যদি সুরাহা না করতে পারো, তাহলে জামায়াত বেশি দূর এগোতে পারবে না।
২০০১ সালে ক্ষমা চাইতে বলি
প্রথম আলো: তখন থেকে ২০১৯-এই সময়ের মধ্যে আপনি পাঁচটি সময় উল্লেখ করেছেন; ২০০১, ২০০৫, ২০০৭-০৮, ২০১১ এবং ২০১৬, যখন আপনি লিখিতভাবে সংস্কারের কথা বলেছেন। এত দীর্ঘ সময় কেন অপেক্ষা করলেন?
আবদুর রাজ্জাক: ১৯৯৪ সালে যখন গোলাম আযম সাহেবের নাগরিকত্বের বিষয়টি সমাধান হয়ে গেল, তখনই আমি মত দিই যে আমাদের মাফ চাওয়া উচিত।
প্রথম আলো: ব্যক্তিগতভাবে আপনি সরাসরি বলেছিলেন?
আবদুর রাজ্জাক: আমি ব্যক্তিগতভাবে আলাপ-আলোচনায় তুলেছি। তবে, আমি অবশ্যই স্বীকার করব যে তখন নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি, যেটা ২০০১ সালে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের সহায়তা নিয়েছিলাম, যাঁদের দুজন এখনো জীবিত আছেন। আমি লিখিতভাবে খসড়া বিবৃতি তৈরি করে দিয়েছিলাম। সে বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেটি হবে বলে আশা করেছিলাম।
আমি খুব খোলামেলাভাবেই বলব যে, ’৭১-এর জামায়াত দেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। জামায়াত দেশে ঘৃণার পাত্র হয়ে গিয়েছিল।
প্রথম আলো: আপনি পদত্যাগপত্রে বলেছেন যে তিন দশক ধরে আপনি দলটিতে সংস্কার করতে চেয়েও তা পারেননি এবং সে কারণেই পদত্যাগ করেছেন। কী সংস্কার করতে চেয়েছেন?
আবদুর রাজ্জাক: প্রথমে আমি চাইছিলাম যে জামায়াতে কাঠামোগত পরিবর্তন হোক। কাঠামোটা বড্ড অনমনীয়, সেটা আরেকটু নমনীয় করা যায় কি না। যেমন, দলের নেতৃত্বে নারী প্রতিনিধিত্ব নেই। অথচ জামায়াতে প্রচুর নারীর অংশগ্রহণ আছে। কিন্তু সেই অনুপাতে দলে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব পর্যাপ্ত নয়।
প্রথম আলো: উদ্দেশ্যটা কী? রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন?
আবদুর রাজ্জাক: একটা দেশকে যদি আপনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান, তাহলে দেশের বাস্তবতাটা বুঝতে হবে। আপনি রাজনীতি করছেন, তাই রাজনৈতিকভাবে অন্যকে মোকাবিলার জন্য প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। মনে করেন মিসরে ব্রাদারহুড ছিল। কিন্তু তারা সেটাকে ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি করে তার পরিব্যাপ্তিটা অনেক বাড়াতে পেরেছিল। তুরস্কের একে পার্টির ইতিহাস দেখুন। সেখানে তারা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে। দলে পরিবর্তন না ঘটালে তারা এভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে পারত না। সেখানে তারা কারচুপি করে ক্ষমতায় আসেনি। আমার কথা ছিল, আমাদেরও দলে সংস্কার আনতে হবে।
একবার ফরাসি দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক হলো। তাঁদের আমাদের দলের একটা সাময়িকী দেওয়া হলো, যেটি নারীরা তৈরি করেছেন। তাঁরা বললেন, সাময়িকীতে যত ছবি ছাপা হয়েছে, সবাই পুরুষ। এতে নেকাব পরা নারীদের ছবিও তো থাকতে পারত। এটা তো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আপনি নারীদের শুধু বিশেষ কোটায় নেবেন কেন? জামায়াতে তো অনেক শিক্ষিত ও যোগ্য নারী আছেন। সংস্কারের এসব কথা আমি বলেছি।
উগ্রপন্থা প্রতিষ্ঠার অভিযোগ
প্রথম আলো: নারীর প্রতিনিধিত্বের বিষয় তো একটা দিক মাত্র। কিন্তু জামায়াতের রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন? জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, দলটি র্যাডিক্যাল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে ক্ষেত্রে কী পরিবর্তনের কথা ছিল?আবদুর রাজ্জাক: জামায়াতে ইসলামী সমাজব্যবস্থার কথা বলে। কিন্তু র্যাডিক্যাল ইসলাম বলতে যা বোঝায়, সন্ত্রাসবাদ বা উগ্রপন্থা—সেটা জামায়াতের রাজনীতি নয়।
১৯৯৪ সালে যখন গোলাম আযম সাহেবের নাগরিকত্বের বিষয়টি সমাধান হয়ে গেল, তখনই আমি মত দিই যে আমাদের মাফ চাওয়া উচিত।
প্রথম আলো: কিন্তু আপনাদের স্লোগান, ‘আল্লাহর আইন চাই’, গঠনতন্ত্রের ঘোষণা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব—এসব বিষয়কে আপনাদের সমালোচকেরা র্যাডিক্যাল ইসলাম বলেই অভিহিত করে থাকেন।
আবদুর রাজ্জাক: র্যাডিক্যাল বলতে বোঝায় সন্ত্রাসবাদ। জামায়াত কিন্তু উদার (মডারেট) ইসলামের রাজনীতিকেই গ্রহণ করেছে। অন্যান্য মুসলিম দেশও সেটাই গ্রহণ করেছে। দেখুন, ’৪৭-এর জামায়াত, ’৭১-এর জামায়াত, আর ২০১৯ সালের জামায়াত তো এক নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পরিবর্তন ঘটছে। ১৮৮০ সালে যখন কংগ্রেস গঠিত হয়, তখন তার নেতা হয়েছিলেন একজন স্কটিশ। পরে সুভাষ বোস, জওহরলাল নেহরু, তারপর ইন্দিরা গান্ধী। তাঁদের প্রত্যেকের সময়েই দলটিতে পরিবর্তন এসেছে। মুসলিম লীগ হয়েছিল ১৯০৬ সালে, স্যার সলিমুল্লাহ তার নেতা ছিলেন। সলিমুল্লাহর মুসলিম লীগ আর জিন্নাহর মুসলিম লীগ এক ছিল না। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবর্তন ঘটানোর প্রয়োজন হয়। সেই পরিবর্তন করতে হবে।
রাজনীতি দূষিত হয়ে গেছে, নতুন দল করছি না
প্রথম আলো: আপনার পুরোনো সহকর্মীরা যদি অভিযোগ করেন যে আপনি তাঁদের দুর্দিনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের ক্ষতি করেছেন এবং এর পেছনে আপনার অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। আপনার জবাব কী?
আবদুর রাজ্জাক: সেটা ঠিক হবে না। কারণ, দলের সবচেয়ে সুসময় ছিল ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল। আমরা তখন ক্ষমতার অংশীদার ছিলাম। তখনই তো আমি কথাটি তুলেছিলাম। এখন আমি বুঝতে পারছি যে জামায়াতকে আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। আর জামায়াতের দুর্দিন এখন তো বোধ হয় কমে গেছে। সবচেয়ে খারাপ সময় গেছে দলের পাঁচজন নেতার বিচার এবং ফাঁসির সময়। আমি তো তখন আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আমি জানতাম, তৃতীয় বিশ্বের দেশে অভিযুক্তের পক্ষ সমর্থন করা সহজ নয়।
একটা দেশকে যদি আপনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান, তাহলে দেশের বাস্তবতাটা বুঝতে হবে।
প্রথম আলো: তাঁরা যদি বলেন আপনি দল ত্যাগ করেছেন কোনো উদ্দেশ্য থেকে। কী বলবেন?
আবদুর রাজ্জাক: আমি দলত্যাগ করেছি নৈতিকতার উচ্চ অবস্থান থেকে।
প্রথম আলো: কী করার জন্য? ব্যক্তি হিসেবে আপনি একা কী করতে পারবেন?
আবদুর রাজ্জাক: আমি কোনো সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছি না।
প্রথম আলো: একেবারে নিশ্চিত? এমনকি, আপনার নীতি সমর্থন করায় দল থেকে যাঁরা বহিষ্কৃত হচ্ছেন বা দলের ভেতরে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন, তাঁরা চাইলেও না?
আবদুর রাজ্জাক: আমি কোনো নতুন দল করছি না এবং কোনো বিদ্যমান দলেও যোগ দিচ্ছি না। একেবারে নিশ্চিত করে বলছি।
এখন আমি বুঝতে পারছি যে জামায়াতকে আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।
প্রথম আলো: জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে আপনার মতামতের অনুরূপ সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং তাতে দলের নতুন নামে সংগঠিত হওয়ার বিষয়টি ছিল, যা মজলিশে শুরা গ্রহণ করেনি। স্পষ্টতই দলের দুটো ধারা। এখন একটি পক্ষ যদি একে পার্টির মতো নতুন রূপে আত্মপ্রকাশের উদ্যোগ নেয়, আপনি তাতে যুক্ত হবেন না?
আবদুর রাজ্জাক: আমি নতুন কোনো দল করছি না, কোনো দলে যোগ দিচ্ছি না। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতি খুব টক্সিক (দূষিত) হয়ে গেছে। এখান থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে কোনো রাজনৈতিক দলে গিয়ে আমি কোনো অবদান রাখতে পারব না। আমি মনে করি, সিভিল সোসাইটির হয়ে বরং আমি কিছু করার চেষ্টা করতে পারি। আপনি দেখেন রাজনীতি কতটা টক্সিক হয়েছে। আবুল মনসুর আহমদের আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর বইতে উনি লিখেছেন যে ’৫৪ সালের নির্বাচনে আমরা যখন দেখলাম যুক্তফ্রন্টের প্রতিপক্ষের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা বললাম কিছু ভোট তাদের বাক্সে দাও যেন তাদের জামানত রক্ষা হয়।
আজকের বাংলাদেশে আপনি আমার প্রতিপক্ষ হলে আপনাকে পরাজিত করেই আমি খুশি হব না, আপনাকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে পারলেই আমি খুশি হব। এখানে সিভিল সোসাইটিকে ভূমিকা নিতে হবে। আমেরিকান এমবাসিতে এক দাওয়াতে আমি, মওদুদ সাহেব এবং আওয়ামী লীগ সরকারের একজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। ওই মন্ত্রী দুঃখের সঙ্গে বললেন যে বিএনপির একজন নেতা মারা গেছেন শুনে জানাজায় যাওয়ার জন্য তিনি পোশাক পরে তৈরি হওয়ার পর তাঁকে টেলিফোনে সেখানে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তখনকার চেয়ে পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে। এখানে যদি ভালো কিছু করতে হয় তাহলে আমার মতো মানুষের জন্য সিভিল সোসাইটি ছাড়া আর কাজ করার জায়গা নেই।
প্রথম আলো: কিন্তু বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটিও তো চাপের মধ্যে আছে?
আবদুর রাজ্জাক: চাপের মধ্যে আছে। কিন্তু সিভিল সোসাইটির বড় সমস্যা হচ্ছে দলীয় বিভাজন।
প্রথম আলো: সেই দলীয় আনুগত্যভিত্তিক বিভাজন তো আপনিও দূর করতে পারবেন না।
আবদুর রাজ্জাক: আমার মনে হয় সেখানে চেষ্টা করার সুযোগ এখনো আছে।
প্রথম আলো: জামায়াতকে পাশ্চাত্যের অনেক দেশ উদার ইসলামপন্থী রাজনীতির ধারক হিসেবে গ্রহণ করার পথে অগ্রসর হয়েছিল।
আবদুর রাজ্জাক: পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সঙ্গে আমার মাধ্যমেই যোগাযোগটা হতো। ২০০৩ সাল থেকে আমি যাওয়া আসা করি। ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, কংগ্রেস এগুলোতে আমার যাওয়া-আসা ছিল। মীর কাসেম আলীর যে ছেলেকে কিডন্যাপ করা হয়েছে তার মাধ্যমেই যোগাযোগ হতো। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার হওয়ার পর হয়তো তাঁদের কেউ কেউ এখন আর সম্পর্কের ব্যাপারে ততটা আগ্রহী নন। তবে একেবারে সম্পর্ক নেই, তা নয়। এখনো দূতাবাস থেকে যোগাযোগ করা হয়। আমি গত অক্টোবরে গিয়েছি। সেখানকার সিভিল সোসাইটিতে আমার বন্ধুবান্ধব আছে।
বোমা হামলা ও সহিংসতা
প্রথম আলো: কিন্তু অবস্থাটা তো বদলে গেছে। এর কারণ কী এই যে বাংলাদেশে জেএমবির ৬৩ জেলায় বোমা হামলা এবং বাংলা ভাইয়ের উত্থানের মতো সন্ত্রাসী ঘটনাগুলোয় জামায়াতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে? মতিউর রহমান নিজামী বাংলা ভাইকে মিডিয়ার সৃষ্টি বলে নাকচ করার চেষ্টা কি এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেনি?
আবদুর রাজ্জাক: বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি—এ কথা তিনি বলেছিলেন মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হচ্ছিল সেই পটভূমিতে। আর সে সময়ে ৬৩ জেলায় বোমা হামলার ঘটনা তো বাস্তবতা।
আমি দলত্যাগ করেছি নৈতিকতার উচ্চ অবস্থান থেকে।
প্রথম আলো: কিন্তু ইসলামের নামে সন্ত্রাসের মদদদাতা হিসেবে জামায়াত সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটা নিশ্চয়ই দলের ক্ষতি করেছে?
আবদুর রাজ্জাক: এটা সবাই জানে, সন্ত্রাসের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা জামাতের দর্শনের পরিপন্থী। এটা যারা সহ্য করতে পারেনি, তারা জামায়াত ছেড়ে গেছে। তাতেই কিন্তু প্রমাণ হয় জামায়াত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে।
প্রথম আলো: ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনার বিষয়েও তো জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
আবদুর রাজ্জাক: অনেক পুরোনো কথা, আমার মনে নেই কী হয়েছিল। কিন্তু একটা কথা আমি বলতে পারি, আমি এখন জামায়াতে নেই। কিন্তু জামায়াত সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, সব সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। তাই এটা বলা সঠিক হবে না। জামায়াতের ওপর অপবাদ চাপানো হবে।
প্রথম আলো: দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর যেসব সহিংসতা হয়েছে, বাড়িঘর পোড়ানো, বাসে আগুন দেওয়া—এসবের দায় তো জামায়াতের ওপর বর্তায়?
আবদুর রাজ্জাক: দেখুন, রাজনীতিতে সহিংসতার বিষয়টি পুরোনো। এগুলো আগেও তো হয়েছে। তবে জামায়াত অবস্থান নিয়েছে সহিংসতার বিরুদ্ধে। কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। কিন্তু বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের মতো পরিবেশ আছে কি?
ইসলামপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ
প্রথম আলো: বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী?
আবদুর রাজ্জাক: আমি মনে করি মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশে এখন যে ধারাটা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে জরুরি। একে পার্টি এবং এন্নাহাদা পার্টির (তিউনিসিয়া) মডেলে তরুণেরা এগিয়ে আসবে বলে আমি মনে করি। তবে আমি আমার লেখায় বলেছি যে ’৭১ নিয়ে কোনো আপস হবে না।
প্রথম আলো: তার মানে সেটাও তো জামায়াতের একটি উপজাত দল হবে?
আবদুর রাজ্জাক: এটা সময়ের দাবি। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের অধীনে মুসলিম উদার গণতান্ত্রিক দলের প্রয়োজন এবং সম্ভাবনা আমি দেখছি।
আমি নতুন কোনো দল করছি না, কোনো দলে যোগ দিচ্ছি না। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতি খুব টক্সিক (দূষিত) হয়ে গেছে।
প্রথম আলো: জামায়াতের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে বলে মনে হয়? বিশেষ করে মজলিশে শুরা তো পরিবর্তনের পক্ষে নয় বলেই মনে হচ্ছে।
আবদুর রাজ্জাক: মজলিশে শুরা যে একেবারেই পরিবর্তনের পক্ষে নয়, সেটা বলা যাবে না। সম্প্রতি তারা কিছু ভালো সিদ্ধান্ত তো নিয়েছে। আমি যে দুটি প্রস্তাব দিয়েছি তারা তা গ্রহণ করলে তাদের ভালো সম্ভাবনা আছে। দলটির মধ্যে এখনো উদার দৃষ্টির লোক আছেন। তাঁদের নাম বলতে চাই না। তাঁরা সংখ্যায় কম। কিন্তু
সব ব্যাংকের ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামবে শিগগিরই
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ২১টি ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে এনেছে। বাকি ব্যাংকগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে। অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান আসবে। দীর্ঘদিনের ঋণখেলাপির সংস্কৃতিতে থেকে বেরিয়ে আসারও আশ্বাস দেন তিনি।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে আনা এক নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিরোধী দলরে সদস্য মসিউর রহমান ৭১বিধিতে আনা নোটিশে বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদরে হার এক অঙ্কে নামানোর কথা থাকলেও এখনো তা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর ফলে ইতিমধ্যে দেশের ২১টি ব্যাংক ঋণের ওপর সুদহার এক অঙ্কের ঘরে তথা শতকরা ৯ ভাগে নামিয়ে এনেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য সব ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে বাকি ব্যাংকগুলোও ঋণের সুদহার অল্প সময়ের মধ্যে এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ব্যাংক ঋণে উচ্চ হারে সুদ আমাদের অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে আসছে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার একটি গ্রহণযোগ্য এবং ব্যবসাবান্ধব পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবসা বান্ধব একটি সরকার। আমরা ব্যবসায়ীদের বিপক্ষে না। ব্যবসায়ীরা যদি ব্যবসা না করতে পারে, আমাদের কর্মসংস্থান কোথা থেকে আসবে? দারিদ্র্য বিমোচন কীভাবে হবে? সেই কাজগুলো করার জন্য তাদের (ব্যাংক মালিকদের) সঙ্গে বারবার বসছি। আমি আশ্বস্ত করছি অতি শিগগিরই ফলপ্রসূ অবস্থা দেখতে পাবেন।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন, ক্লাসিফায়েড ঋণের পরিমাণ আর বাড়বে না। ঋণখেলাপির সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। তিনি আশ্বস্ত করতে পারেন, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা হবে। ঋণের পরিমাণ বাড়বে না।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে আনা এক নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিরোধী দলরে সদস্য মসিউর রহমান ৭১বিধিতে আনা নোটিশে বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদরে হার এক অঙ্কে নামানোর কথা থাকলেও এখনো তা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর ফলে ইতিমধ্যে দেশের ২১টি ব্যাংক ঋণের ওপর সুদহার এক অঙ্কের ঘরে তথা শতকরা ৯ ভাগে নামিয়ে এনেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য সব ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে বাকি ব্যাংকগুলোও ঋণের সুদহার অল্প সময়ের মধ্যে এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ব্যাংক ঋণে উচ্চ হারে সুদ আমাদের অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে আসছে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার একটি গ্রহণযোগ্য এবং ব্যবসাবান্ধব পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবসা বান্ধব একটি সরকার। আমরা ব্যবসায়ীদের বিপক্ষে না। ব্যবসায়ীরা যদি ব্যবসা না করতে পারে, আমাদের কর্মসংস্থান কোথা থেকে আসবে? দারিদ্র্য বিমোচন কীভাবে হবে? সেই কাজগুলো করার জন্য তাদের (ব্যাংক মালিকদের) সঙ্গে বারবার বসছি। আমি আশ্বস্ত করছি অতি শিগগিরই ফলপ্রসূ অবস্থা দেখতে পাবেন।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন, ক্লাসিফায়েড ঋণের পরিমাণ আর বাড়বে না। ঋণখেলাপির সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। তিনি আশ্বস্ত করতে পারেন, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা হবে। ঋণের পরিমাণ বাড়বে না।
Subscribe to:
Posts (Atom)




